রাজধানীর রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার আফতাবনগর ও আশপাশের অঞ্চলে চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের হামলা ও হুমকির কারণে ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা শিরিন শিলার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও শিরিন শিলার ভাই মো. সোহেল রানা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা, অফিস ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সোহেল রানাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, শিরিন শিলা চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ হওয়া এবং তাঁদের পরিবারের অতীত রাজনৈতিক পরিচিতির কারণে একটি প্রভাবশালী মহল তাঁদের ওপর নজর দেয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই হামলা ও হুমকির ঘটনা শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সোহেল রানার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

হামলার পর হাসপাতালে শিরিন শিলার ভাই সোহেলা রানা
এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁর অফিসে ফের হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় অফিসের আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিবারের আরও দাবি, হামলা ও হুমকির ঘটনায় স্থানীয় থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চেষ্টা করা হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং ভুক্তভোগীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক হুমকি ও হামলার কারণে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সোহেল রানা। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দেশ ছেড়ে কানাডায় চলে যান এবং সেখানে আশ্রয় নেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে দেশ ছাড়ার পরও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আফতাবনগর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব কর্মকাণ্ডের ধরন ও মাত্রা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
সোহেল রানার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহলও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

